খেলা

উচ্চতা, গরম, অনিদ্রা, শব্দদূষণ আর ৪০ বছরের ভূত—আজতেকায় কেইনদের ‘মিশন ইম্পসিবল’

July 5, 2026
1 month ago
By SAJ
উচ্চতা, গরম, অনিদ্রা, শব্দদূষণ আর ৪০ বছরের ভূত—আজতেকায় কেইনদের ‘মিশন ইম্পসিবল’

একটা ম্যাচ একটা দলের জন্য কতটা কঠিন হতে পারে?

কাল শেষ ১৬-এর ম্যাচে কাগজে–কলমে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ শুধু মেক্সিকো। তবে উচ্চতা, উত্তাপ, শব্দদূষণ, নিদ্রাহীনতা আর চার দশক আগের একটা ভূত—সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের জন্য আজতেকার ম্যাচটা অগ্নিপরীক্ষা বললেও কম হয়ে যায়!

টমাস টুখেলের দল শুক্রবার যখন মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছায়, দুয়ো দিয়েই তাদের ‘স্বাগত’ জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। রীতিমতো দাঙ্গা পুলিশ ব্যারিকেডের মধ্যে সশস্ত্র প্রহরায় হোটেলে যেতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। অতিথিদের ‘আপ্যায়ন’ করার জন্য আরও ‘প্রস্তুতি’ নিচ্ছেন মেক্সিকান সমর্থকেরাও। আগের রাউন্ডের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর দলকে লাউডস্পিকার আর মোটরগাড়ির হর্ন দিয়ে ঘুমাতেই দেওয়া হয়নি। এখন সেই একই আতঙ্ক তাড়া করছে ইংল্যান্ডকে। হোটেলের ঠিকানা গোপন রাখার চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। তাই কোচিং স্টাফ খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দিচ্ছে প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধ, হোয়াইট নয়েজ মেশিন, কেউ কেউ নিজেরাই এনেছেন ইয়ারপ্লাগ।

কিন্তু শব্দ তো শুধু একটা সমস্যা। আসল ‘খলনায়ক’ তো উচ্চতা! মেক্সিকো সিটির গড় উচ্চতা প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ফুট। এত বেশি উচ্চতায় খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে মানিয়ে নিতে সাধারণত দরকার হয় দুই সপ্তাহের মতো সময়। ইংল্যান্ড পেয়েছে মোটে দুই দিন। টুখেল নিজেই বলছেন, এই অল্প সময়ে মেক্সিকো সিটির এই উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব।

ঘরের মাঠের দর্শক আর উচ্চতার সুবিধা নিয়েই হয়তো পুরো টুর্নামেন্টে মেক্সিকো খেলছে দুর্দান্ত। ৪০ বছরে প্রথম জয় পেয়েছে নকআউটে, চার ম্যাচে গোল হজম করেনি একটিও। আজতেকায় মেক্সিকোর রেকর্ডও অবিশ্বাস্য—৮৯ ম্যাচে হার মাত্র ২টি। বিশ্বকাপের ১০ ম্যাচের কোনোটিতেই হারেনি এই মাঠে। উল্টো ইংল্যান্ডের আজতেকাতে একটা তিক্ত স্মৃতি আছে, ১৯৮৬ বিশ্বকাপের যে কোয়ার্টার ফাইনালটি পরিচিত ডিয়েগো ম্যারাডোনার ম্যাচ হিসেবে। প্রথমে ‘হ্যান্ড অব গড’, এর কিছুক্ষণ পরই সেই গোল—যেটিকে অনেকে বলেন ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’।

টুখেলের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তা, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ইংল্যান্ড ক্রমে বিবর্ণ হয়েছে। কঙ্গোর বিপক্ষে হ্যারি কেইন ত্রাতা হয়ে দেখা না দিলে হয়তো ভেস্তেই যেত ‘ইটস কামিং হোমের’ স্বপ্ন। এত এত বাধার সামনে দাঁড়িয়েও কেইনের কথাটা আশা দেখাতে পারে ইংলিশদের, ‘পরিস্থিতি যা–ই হোক না কেন, যে সুযোগই পাই না কেন, আমার মনে হচ্ছে মাঠে নামলে আমি গোল করতে পারব।’

কেইনের দিকে যেমন তাকিয়ে ইংল্যান্ড, তেমনি মেক্সিকো তাকিয়ে হুলিয়ান কিনোনিয়েসের দিকে।  বিশ্বকাপে কলম্বিয়া বংশোদ্ভূত এই মেক্সিকো ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত করে ফেলেছেন ৩ গোল।

এসবের মধ্যে যোগ হয়েছে আরেক নাটক—গুপ্তচরবৃত্তির গুঞ্জন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, কানসাস সিটির ঘাঁটি থেকে মেক্সিকো সিটিতে আসার সময়সূচি পরিবর্তনের পেছনে একটা কারণ ছিল প্রতিপক্ষের নজরদারি এড়ানো। নাটকের এখানেই শেষ নয়। ম্যাচের আগের দিন ফিফা বিবেচনা করেছিল কিক-অফ ছয় ঘণ্টা এগিয়ে আনার। কারণ, পূর্বাভাস বলছে, রোববার বজ্রঝড়ের ঝুঁকি প্রবল। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তিতে ম্যাচটা নির্ধারিত সময়েই শুরু হওয়ার কথা, যদি ঝড়বৃষ্টি শেষ মুহূর্তে বাগড়া না দেয়।