খেলা

উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল পিএসজি

October 20, 2026
13 hours ago
By SAJ
উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল পিএসজি

পিএসজি এগিয়ে গেল, বার্সেলোনা সমতা ফেরাল। পিএসজি আবার এগিয়ে গেল, বার্সেলোনা আবার সমতা ফেরাল।

এরপর পিএসজি আরও একবার এগোল, এবার আর পারল না বার্সেলোনা। উল্টো পিএসজি ব্যবধান বাড়াল আরও।

প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াই শেষ হলো ৪-২ গোলে। জয়ী দলটার নাম পিএসজি।

উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ পেল হান্সি ফ্লিকের দল।

মৌসুমের শুরুটা দারুণ ছন্দে কাটছিল বার্সেলোনার। সেই ছন্দ থামল প্যারিসে এসে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে পিএসজি। বার্সেলোনার রক্ষণে অগোছালো ভাবের সুযোগ নিয়ে প্রথম কয়েক মিনিটেই গোলের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল স্বাগতিকেরা। খিচা কাভারাস্কেইয়ার জোরালো শট ঠেকাতে ডাইভ দিয়েছিলেন হোয়ান গার্সিয়া। গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও বলটি লাগে পোস্টে।

ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। অ্যান্থনি গর্ডন ও পেদ্রি গোলের সুযোগ তৈরি করেন। দানি ওলমোর জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে প্রথমার্ধেই দুই দলকে হারাতে হয় গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়কে। পায়ের পেছনের পেশিতে চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন পিএসজির উসমান দেম্বেলে। এরপর উঠে যান বার্সেলোনার ওলমোও।

দেম্বেলের বদলি হিসেবে নেমে ফেরান তোরেস দুটি সুযোগ পেয়েছিলেন। দুবারই তাঁকে আটকে দেন গার্সিয়া। ওলমোর জায়গায় নামা ফেরমিন লোপেজও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন। একবার প্রায় একা পেয়ে গিয়েছিলেন পিএসজি গোলরক্ষক মাতভে সাফোনভকে। কিন্তু চিপ করে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ।

অচলাবস্থা ভাঙে ৩৮ মিনিটে। লামিন ইয়ামালের পাস মাঝপথে আটকে পিএসজি বলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গার্সিয়াকে ফাঁকি দেন দেজিরে দুয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে ফেরে বার্সেলোনা। কিন্তু ৫০ মিনিটে আবারও গোল বসেছিল তারা। কপাল ভালো তাদের, আশরাফ হাকিমি গোলরক্ষককে একা পেয়েও জালে বল পাঠাতে পারেননি। দারুণ সেভে বার্সাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গোলরক্ষক গার্সিয়া।

এরপর সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। আর সেই গোলের নায়ক এমন একজন, যাঁর নাম হয়তো ম্যাচ শুরুর আগে খুব বেশি আলোচনায় ছিল না। ফেরমিন লোপেজের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে বক্সে ঢুকে পড়েন তরুণ জাভি এসপার্ত। পিএসজি গোলরক্ষক সাফোনভকে ফাঁকি দিয়ে করেন চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর প্রথম গোল।

তবে গোল হজমের পর পিএসজির দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় মার্কিনিওস ও কাভারাস্কেইয়াকে। ওদিকে বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামান গাভি, রদ্রি ও কারিম আদেয়েমিকে। নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গাভির শট আটকে যায়।

৭০ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল পিএসজি। কাছ থেকে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন ফেরান তোরেস, কিন্তু তাঁর শট লাগে পোস্টে। শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার রক্ষণ ভাঙতে সক্ষম হয় পিএসজি। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে দলকে এগিয়ে দেন লুকাস এরনান্দেস। বাতাসে গর্ডনকে হারিয়ে তাঁর হেড ঠেকাতে পারেননি গার্সিয়া। স্কোরলাইন তখন ২-১।

কিন্তু ম্যাচের নাটক তখনো বাকি। ৭৯ মিনিটে আবারও সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ডান প্রান্তে বদলি খেলোয়াড় ওয়ারেন জাইরে-এমেরিকে কাটিয়ে বুটের বাইরের অংশ দিয়ে বল তুলে দেন ইয়ামাল। সাফোনভের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়াতেই বার্সার খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস।

বার্সার সেই আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আবার এগিয়ে যায় পিএসজি। বক্সের বাইরে থেকে আসা বল বুকে নামিয়ে দুর্দান্ত শটে গার্সিয়াকে পরাস্ত করেন ভিতিনিয়া। ৩-২ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।

শেষ দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় পিএসজি। ডান প্রান্ত দিয়ে বারবার বার্সেলোনার রক্ষণকে চাপে ফেলছিলেন হাকিমি। তাঁর ক্রস ফাঁকা জায়গায় পেয়ে টোকা দিয়ে গোল করেন ফাবিয়ান রুইস। তাতেই নিশ্চিত হয় পিএসজির ৪-২ গোলের জয়। থেমে যায় বার্সার নিখুঁত মৌসুম শুরুর গল্প।