বাংলাদেশ

২০ হাজার বৈধ অস্ত্র জমা পড়েনি

February 11, 2026
2 months ago
By SAJ
২০ হাজার বৈধ অস্ত্র জমা পড়েনি

সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সব বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েনি। জমা না পড়া অস্ত্রের সংখ্যা ২০ হাজার ২৮৮, শতাংশের হিসাবে ৪২। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার অংশ হিসেবে লাইসেন্স করা এসব জমা দিতে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, থানায় জমা না হওয়া এসব অস্ত্র এখন অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এসব অস্ত্রের মালিকদের তালিকা করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভোটের মাঠে এসব আগ্নেয়াস্ত্র যাতে সহিংসতায় ব্যবহার না হয়, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি অস্ত্রের মালিকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, সারা দেশে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৩ হাজার ৭০২টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তির নামে ৪৮ হাজার ২৮৩টি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ৪ হাজার ৮৫৪টি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৬৫টি। এর মধ্যে শুধু ব্যক্তির নামে লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল।

তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে (৩১ জানুয়ারি) দেশের বিভিন্ন থানায় ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ বা লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা পড়ে। ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

গত ১৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষিত তফসিল অনুসারে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের বহন-প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে। তবে ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদ প্রার্থীদের অনুকূলে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্রের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ্নেয়াস্ত্র জমা ও বহনে নিষেধাজ্ঞা একটি নিয়মিত, গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সহিংসতা ও ভয়ভীতির আশঙ্কা কমে।

ঢাকা মহানগরে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ৩ হাজার ৯৯১ জনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েনি।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব বৈধ অস্ত্র ডিএমপির বিভিন্ন থানায় জমা পড়েনি, সেগুলো এখন অবৈধ অস্ত্র। এসব অস্ত্রের মালিকদের তালিকা করে তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্ত্রসহ তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

জমা না হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে আওয়ামী লীগের মেয়াদে লাইসেন্স পাওয়া অস্ত্রই বেশি বলে জানা গেছে। এসব অস্ত্রের মালিকদের অনেকেই বিদেশে পালিয়ে গেছেন। দেশের ভেতরে অনেকে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমাতে অনেককে বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ফেনীর নিজাম উদ্দিন হাজারী নিজের নামে একটি করে পিস্তল ও রাইফেলের লাইসেন্স, তাঁর স্ত্রীসহ ফেনীর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ৩০ জনের নামে রাজনৈতিক বিবেচনায় অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছিলেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভ দমনে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, যারা বৈধ অস্ত্র জমা দেয়নি, তারা এ নিয়ে ভোটে সহিংসতা করতে চাইলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।