বাংলাদেশ

আমাদের কোনো কার্ড নেই, আপনারাই আমাদের কার্ড: জামায়াতের আমির

January 23, 2026
2 months ago
By SAJ
আমাদের কোনো কার্ড নেই, আপনারাই আমাদের কার্ড: জামায়াতের আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভাই, আমাদের কাছে কোনো কার্ড নেই। আপনারা সবাই ভাইবোনেরা আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে আমরা একটা ভালোবাসার কার্ড চাই। আপনাদের সমর্থন, দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে আগামী দিনে বেকার এবং দায়–দয়ামুক্ত একটা বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। কারও দয়ার পাত্র হয়ে বাংলাদেশের কোনো এলাকার মানুষ বসবাস করবে, তা আমরা দেখতে চাই না।’

আজ শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠে ১০–দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। জুমার নামাজের আজানের পর তিনি বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। প্রায় ১২ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর পঞ্চগড়–১ আসনে জোটের প্রার্থী সারজিস আলমের হাতে শাপলা কলি প্রতীক ও পঞ্চগড়–২ আসনের প্রার্থী সফিউল আলমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরের ধনে পোদ্দারি আমরা করব না। আমরা যুবকের হাত শক্তিশালী করব, ইনশা আল্লাহ। আমরা যুবতীর হাতও শক্তিশালী করব, ইনশা আল্লাহ। পরিবার যেমন নারী–পুরুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে, আমরা নারী–পুরুষ মিলিয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তুলব, ইনশা আল্লাহ।’

বক্তব্যের শুরুতে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমি সাক্ষী হতে এসেছি। আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগবে কিসের সাক্ষী? বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, গরিব করে রাখা হয়েছে, সেই বঞ্চনার সাক্ষী হতে এসেছি। সৎমায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ আমাদের কলিজার অংশ। এই উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে। আর সেই উত্তরবঙ্গকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে ইচ্ছা করে। আমি তার সাক্ষী হতে এসেছি।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ থেকে আগামী দিনে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না। আমরা সবার হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চাই। আমাদের প্রত্যেক যুবক–যুবতী, প্রত্যেক নাগরিককে আমরা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করতে চাই। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই। বন্ধ চিনিকল খুলে দিতে চাই, শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে আমরা ফিরিয়ে নিতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ আওয়াজ দেয়, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। ওই টেকনাফের উন্নয়নের জোয়ার আর আসতে পারে না তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। আমরা এটা উল্টাইয়া দেব। বলব, তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ। এত দিন টেকনাফ থেকে উন্নয়ন হয়েছে, এখন ব্যালান্স হওয়া দরকার। এখন হবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ। আপনারা মন খারাপ করবেন না তো?’

উত্তরবঙ্গের নদীগুলো মরুভূমি হয়ে গেছে মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘শরীরের ভেতরে যেমন রক্তের নালি, রক্তকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছে দেয়, আর তাই আমরা বাঁচি। যদি ওই রক্তনালি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে মানুষ মারা যায়। আজ আমাদের আল্লাহর দান, এই নদীগুলো খুন করা হয়েছে। এই দেশের কি মা–বাবা ছিল না? তাহলে আমার নদীগুলো মরে গেল কেন?’ তিনি বলেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশকে গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলব। আল্লাহ যদি আপনাদের মূল্যবান ভোটে, ভালোবাসায়, সমর্থনে ১০ দলের এই সমন্বয়ককে পার্লামেন্টে পাঠান, যাতে সরকার গঠন করতে পারে; আমরা কথা দিচ্ছি, শুধু নদীর জীবন ফিরে আসবে না, মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে, ইনশা আল্লাহ।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওরা জনগণের প্রতি পাঁচ বছরে একবার দরদের হান্ডিতে জাল দেয়, আর এটা উতলাইয়া ওঠে। বাকি সাড়ে চার বছর হারিকেন জ্বালায়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। কেউ কেউ আবার বসন্তের কোকিল। বসন্তকাল আসলে আইসা বলে কুহু কুহু। এরপরে আর এদের খুঁজে পাওয়া যায় না। উড়ে এসে জুড়ে বসে। মানুষের সঙ্গে, তৃণমূলের সঙ্গে, গরিব–দুঃখীদের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা এই রাজনীতিকে ঘৃণা করি। আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকব, ইনশা আল্লাহ।’

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার জন্য হন্যে হয়ে ছুটতে হয় রাজধানী ঢাকায়। এই সামর্থ্য সবার নেই, রাস্তায় অনেকের মৃত্যু হয়। এ অবস্থা আমরা আর দেখতে চাই না। আল্লাহ–তাআলা আমাদের দায়িত্ব দিলে ১৮ কোটি মানুষের ৬৪ জেলার কোথাও মেডিক্যাল কলেজবিহীন থাকবে না। পঞ্চগড়েও মেডিক্যাল কলেজ হবে, ইনশা আল্লাহ। মানসম্মত সেবা এখানেও নিশ্চিত করা হবে। বলবেন এত টাকা কোথায় পাবেন? ওই যে চুরি করে আমাদের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে, ওগুলো ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢোকাইয়া আমরা বের করে আনব, ইনশা আল্লাহ। আর আগামী দিনে কাউকে আর চুরি করতে দেওয়া হবে না।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই উত্তরবঙ্গের চেহারা, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলতে চাই, বদলে দেওয়ার জন্য পাঁচটি বছর যথেষ্ট হবে। এখন যেমন আপনারা আমাদের ভালোবাসা দিচ্ছেন, কখনো পাশে এসে, একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা যদি কাজ করি, উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে যাবে, ইনশা আল্লাহ। এই মাটি উর্বর, মানুষ পরিশ্রমী। এই এলাকা পেছনে থাকার প্রশ্নই ওঠে না।’