জলাধার ও সবুজ এলাকা কমায় সংকটে খুলনা, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, গ্রীষ্মে পানি ওঠে না
খুলনা নগরের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র রয়েল মোড়। আশপাশে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক হোটেল, হাসপাতাল, শিশুপার্ক—সব মিলিয়ে সব সময় জমজমাট। এই ব্যস্ত নগরচিত্রের আড়ালে লুকিয়ে আছে হারিয়ে যাওয়া এক ইতিহাস—এই এলাকাতেই একসময় ছিল বড় বড় একাধিক পুকুর, জলাভূমি আর খোলা সবুজ জায়গা। শহরের প্রবীণ মানুষের কাছে সেসব পুকুরের স্মৃতি এখনো জীবন্ত।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নানের স্মৃতিতেও শহরের অনেক পুকুর এখনো তরতাজা। শৈশবের স্মৃতি হাতড়ে বলছিলেন, ‘খুলনায় ছিল পুকুর আর পুকুর। আমরা কখনোই বাড়িতে গোসল করতাম না। কখনো এ পুকুরে, কখনো ওই পুকুরে। রয়েল মোড়ের পাশে যে জাতিসংঘ শিশুপার্ক, ঠিক সেই জায়গায় বিরাট একটা পুকুর ছিল। তারের পুকুর। আমরা সাঁতার কেটেছি, মাছ ধরেছি। ইন্টার স্কুল সাঁতার প্রতিযোগিতা হতো ওই পুকুরে। শেখপাড়ায় সিংহের মাঠের পাশে বিরাট পুকুর ছিল। আমরা খেলে সেখানে লাফঝাঁপ দিতাম। ধর্মসভার পাশে গোলকমনি পার্ক হয়েছে, সেটা বড় পুকুর ভরাট করে। পিটিআইয়ের মধ্যে, সিটি ল কলেজের মধ্যে বড় পুকুর ছিল। কিছুই ধরে রাখা যায়নি।’
রয়েল মোড়ের মতো খুলনা নগরের নানা ওয়ার্ডে, অলিগলিতে এমন আরও শতাধিক পুকুর, দিঘি, ডোবা হারিয়ে গেছে। বদলে সেখানে বহুতল ভবন, দোকান, সিনেমা হল, বাসস্ট্যান্ড, আবাসিক প্রকল্প গড়ে উঠেছে।
নগরের বাসিন্দারা বলছেন, জলাধার কমে যাওয়ায় খুলনায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে শহরের প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয়। খুলনা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর গড়ে প্রতিবছর ৬ ইঞ্চি নিচে নেমে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, গত ১০ বছরে খুলনার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রতিবছর বাড়ছে।
পানিসংকট ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে জলাধার ও সবুজ স্থানগুলো হারানো গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, জলাধার ও সবুজ কমে যাওয়ার কারণে শহরের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে এবং প্রচণ্ড গরমের স্থায়িত্বও দীর্ঘ হচ্ছে। এ ছাড়া নগরীতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে গ্রীষ্ম মৌসুমে অধিকাংশ নলকূপে পানি ওঠে না, যা নগরবাসীর জন্য নতুন করে সংকট তৈরি করছে।
গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী তাঁর বাংলাদেশে বিলুপ্ত দিঘি-পুষ্করিণী-জলাশয় গ্রন্থে খুলনার ৮০টি স্থানে শতাধিক হারিয়ে যাওয়া জলাশয়ের তথ্য তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে আবুল কালাম সামসুদ্দিন তাঁর শহর খুলনার আদি-পর্ব গ্রন্থে উল্লেখ করেন, একসময় শহরের বসতির ধরনই ছিল ভিন্ন—এক একটি পরিবার পুকুর, বাগান, খোলা জায়গাসহ বসতি গড়ে তুলত।
পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) উদ্যোগে ২০২৪ সালে খুলনার ৩১টি ওয়ার্ডে ১৭১টি পুকুর থাকার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সংগঠনটির খুলনার বিভাগীয় সমন্বয়ক মাহফুজুর রহমান বলেন, আধুনিক খুলনা রেলস্টেশন এলাকায় একসময় অন্তত নয়টি বড় পুকুর ছিল। এখন সেখানে রেললাইন ও নগর অবকাঠামো। কেডিএ অ্যাভিনিউয়ের গোলাম মাওলার পুকুরসহ অনেক পুকুরের জায়গায় এখন প্রশস্ত সড়ক ও উঁচু বাণিজ্যিক ভবন। খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের মূল একাডেমিক ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে সাবেক মরিয়মপাড়া পুকুরের ওপর। শেখপাড়ার মোড়ের পুকুরের ওপর সংগীতা সিনেমা হল, অনন্ত মল্লিকের পুকুরের ওপর নির্মিত হয়েছে হোটেল রয়্যাল। এখনো অনেক পুকুর অবহেলায় পড়ে আছে, কিছু আবার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবির উল জব্বার বলেন, ২০১২ সালে মাস্টারপ্ল্যান (মহাপরিকল্পনা) করার সময় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সরকারি ও ব্যক্তিগত জলাশয় ছিল। ব্যক্তিগত পুকুরগুলো প্রায় সবই ভরাট হয়ে গেছে। এখন ১৮টি সরকারি বা প্রতিষ্ঠানের পুকুর সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, নকশার কাজ শেষ হয়েছে।
জলাশয় নিয়ে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) সর্বশেষ জরিপটি সম্পন্ন হয় ২০২৫ সালে। ওই জরিপে ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) মানচিত্রে জলাশয় হিসেবে চিহ্নিত স্থানগুলোর বর্তমান অবস্থা দেখানো হয়েছে।
কেডিএর তথ্য অনুযায়ী, ড্যাপের মানচিত্রে নগরের ৩১টি ওয়ার্ডে ২৯৮টি জলাশয় ছিল। এর মধ্যে ৮০টি জলাশয়ের শতভাগ অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। ২৭টি জলাশয় আংশিক ভরাট হয়েছে। বাকিগুলো নাজুক হলেও কোনোমতে টিকে আছে।কেডিএর তথ্যে ওয়ার্ডভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১, ২, ৩, ৬, ৯, ১৪, ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটিতে সর্বনিম্ন ১৫টি থেকে সর্বোচ্চ ৩৩টি পর্যন্ত জলাশয় ছিল। ৩১টি ওয়ার্ডের কয়েকটিতে ভরাটের মাত্রা ভয়াবহ। যেমন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ছোট বয়রা ও বানিয়াখামার মৌজায় একসময় ১৯টি পুকুর ছিল। এখন আছে সাতটি। পুরো ও আংশিক ভরাট হয়েছে ১৩টি। ১৩, ১৫, ১৮ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে টিকে থাকা জলাশয়ের চেয়ে ভরাট হওয়া জলাশয়ের সংখ্যা বেশি।
কেডিএর নগর-পরিকল্পনাবিদ তানভীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, নগরে টেকসই নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের স্বার্থে টিকে থাকা জলাশয়সমূহ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জলাশয়ের বিবরণ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
১ এপ্রিল কেডিএর সচিব এম এম মাহমুদুর রহমান খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, ড্যাপ অনুযায়ী নগরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক জলাশয় সংরক্ষিত হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব জলাশয়ের একটি বড় অংশ অবৈধ ভরাট, দখল এবং ভূমির ব্যবহার পরিবর্তনের কারণে বিলুপ্ত বা সংকুচিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জলাশয় সংরক্ষণে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় চিঠিতে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং ‘মহানগরী, বিভাগীয় শহর, জেলা শহরের পৌর এলাকা ও সব পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনে (২০০০) বলা আছে, পুকুর, দিঘি, ডোবা বা যেকোনো প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করা নিষিদ্ধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাস্তবে আইন থাকা সত্ত্বেও মাঠে প্রয়োগ ছিল দুর্বল, এমন অভিযোগ বহুদিনের।পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় এখন পর্যন্ত কত জলাধার ভরাট হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই। তবে এযাবৎকাল জলাশয় ভরাট নিয়ে একটি মাত্র মামলার নজির আছে। নগরের মুজগুন্নী এলাকার ৭০০ বছরের পুরোনো খানজাহান আলী দিঘি ভরাটের চেষ্টার অভিযোগে ২০১৫ সালে মামলাটি হয়েছিল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার মো. ফজলুল হক বলেন, ‘জলাশয় ভরাট যে একটা বড় অপরাধ, এটা এখনো অনেকেই জানে না। অভিযোগ পেলে আমরা বন্ধ করে দিই। গোপনে গোপনে অনেক সময় ভরাট হয়ে যায়। এসব খবর আমাদের কাছে আসে না। তবে এখন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। খবর পেলেই ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) খুলনার সমন্বয়কারী মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, কেডিএ, কেসিসি, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোর এই সমন্বয়হীনতা, গাফিলতি এবং অনেক ক্ষেত্রে নীরবতার কারণে একের পর এক জলাধার ভরাট হয়েছে।
সম্প্রতি নগরের নিরালা দিঘি, ভগীর দিঘি, লায়ন্স স্কুল পুকুর, নতুন বাজার, আন্দির পুকুর, বাস্তুহারা পার্ক পুকুর, পাবলা এলাকার পুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, কোথাও পাড় ভেঙে পড়ছে, কোথাও আংশিক ভরাট, কোথাও দখলের চাপ, আবার কোথাও কচুরিপানায় ঢেকে গেছে পানির অস্তিত্ব।
ভগীর দিঘি এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, এলাকার মানুষ এখানে একসময় গোসল করত। এখন মালিকানা নিয়ে কী একটা মামলা চলছে। পাড় দখল হয়ে গেছে। আর কচুরিপানায় এটা এখন মশার কারখানা।
গত ২৮ মার্চ ছুটির দিনে রাতের আঁধারে পাবলা মধ্য পাড়া মসজিদসংলগ্ন ৯০ বছরের পুরোনো পুকুরটি ভরাটের কাজ চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ জানালে পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে ভরাট বন্ধ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল আলিম বলেন, বয়রা, মুজগুন্নী, বাস্তুহারা ও দৌলতপুর এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ জায়গা একসময় জলাভূমি ছিল। এখন সেগুলো ভরাট করে আবাসন প্রকল্প হয়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয়।
খুলনা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর আগেও নগরে ১২০ থেকে ১২৫ ফুট গভীরতায় নলকূপ দিয়ে পানি তোলা যেত। বর্তমানে সেই স্তর নেমে ১৩০ থেকে ১৩৫ ফুটে পৌঁছেছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ছয় ইঞ্চি করে পানির স্তর নিচে নামছে।
ভূগর্ভের পানি নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুয়েটসহ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, খুলনায় ভূগর্ভস্থ পানির তিনটি স্তর বা অ্যাকুইফার রয়েছে। উচ্চমাত্রায় লবণ, আয়রন ও আর্সেনিকের কারণে ইতিমধ্যে প্রথম স্তরের পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় স্তরেও লবণাক্ততা বেশি থাকায় তা ব্যবহার সীমিত হয়ে গেছে। অন্যদিকে নলকূপ দিয়ে তৃতীয় স্তরের পানি তোলা সম্ভব না হওয়ায় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে সাবমারসিবল পাম্প ব্যবহার করছেন। শুষ্ক মৌসুমে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। আবার ওয়াসা গ্রাহকের চাহিদার অর্ধেকের বেশি পানি ভূগর্ভ থেকেই উত্তোলন করে।
বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয় খুলনার উপপরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জলাশয় কমে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানি বেশি তুলতে হচ্ছে। এতে ভূগর্ভের ফাঁকা স্থান লবণপানি দিয়ে অনেকটা ভরাট হচ্ছে। এতে লবণাক্ততার পরিমাণও বাড়ছে। এটা ভয়ংকর ঝুঁকির বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
পুকুর ও জলাভূমি হারানোর প্রভাব শুধু পানি ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়, শহরের তাপমাত্রাও বাড়ছে। গত ১০ বছরে খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রতিবছর দশমিক ৬ থেকে দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে।
খুলনা আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মে মাসে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২৪ সালের এপ্রিলে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে। এই সময়ে ২০১৫ সালে ৩৬, ২০১৬ সালের এপ্রিলে ৩৬ দশমিক ৩, ২০১৭ সালের মে মাসে ৩৫ দশমিক ৯, ২০১৮ সালের এপ্রিলে ৩৩ দশমিক ৮, ২০১৯ সালের মে মাসে ৩৬ দশমিক ২, ২০২০ সালের এপ্রিলে ৩৪ দশমিক ৪, ২০২১ সালে ৩৬ দশমিক ৪, ২০২২ সালে ৩৫ দশমিক ২ এবং ২০২৩ সালে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। তবে ২০২৪ সালে তাপমাত্রা এক লাফে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে পৌঁছায়।
‘খুলনা শহরের নগরায়ণজনিত তাপপ্রবাহ ঝুঁকি মূল্যায়ন: ভূমি-পৃষ্ঠ তাপমাত্রা, জলবায়ু প্রবণতা ও পূর্বাভাসের ৩০ বছরের বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৩ থেকে ২০২৩—এই ৩০ বছরে গড় ভূমি তাপমাত্রা প্রায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। খুলনা নগরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকায় এখন অতিরিক্ত গরম। শহরের অধিকাংশ এলাকা এখন ভবন, রাস্তা, কংক্রিটে ভরে গেছে। গত ৩০ বছরে নির্মাণ এলাকা বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। প্রায় ৩৮ শতাংশ গাছপালা কমেছে।
গবেষক দলের সদস্য ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ধীমান কুমার রায় বলেন, জমির ব্যবহার পরিবর্তনের এই প্রবণতা শহরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। শহরে গাছপালা ও সবুজ এলাকা বাড়ানো, জলাশয় সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে খুলনা একটি উচ্চ তাপঝুঁকির শহরে পরিণত হতে পারে।