চার মুক্তিযোদ্ধার অসমসাহসিকতা
সংগ্রহকারী: মো. আসাদুজ্জামান, দশম শ্রেণি (স্মৃতিকথা সংগ্রহের সময়), চুয়াডাঙ্গা একাডেমি, চুয়াডাঙ্গা
বর্ণনাকারী: মো. আব্দুল মতিন, বাগানপাড়া, চুয়াডাঙ্গা
সংগ্রহকারী ও বর্ণনাকারীর সম্পর্ক: প্রতিবেশী
১৯৭১ সালের ১৯ আগস্ট, আমরা চারজন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলাধীন রেললাইনের ধারে একটি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিই। প্রথমে আমরা রেললাইন ধরে হাঁটতে থাকি।
আমার কাছে তৎকালীন ইপিআর বাহিনীর একটি দুরবিন ছিল। সেই দুরবিন দিয়ে দেখলাম, রেললাইনের একটু দূরে কিছু সৈন্য। ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না, তারা কারা।
প্রথমে ভাবলাম, সৈন্যরা হয়তো ইপিআর বাহিনীর। কিন্তু ভালো করে খেয়াল করে বুঝলাম, তারা পাকিস্তানি সেনা। তাদের সংখ্যা ১০-১৫ জনের মতো হবে।
সঙ্গীদের নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। আমাদের চারজনের কাছে ছিল চারটি অস্ত্র। দুজন করে রেললাইনের দুই পাশে নেমে গেলাম। ধীরে ধীরে পাকিস্তানি সেনাদের প্রায় কাছে চলে যাই।
পাকিস্তানি সেনারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলি চালাই। আমাদের চারজনের গুলিতে কিছু সেনা মারা যায়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তানি সেনারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে লাগল।
অনেকক্ষণ দুই পক্ষ থেকে গোলাগুলি চলার পরে সঙ্গীদের নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হই। কারণ, আমাদের গুলি ফুরিয়ে যাচ্ছিল আর পাকিস্তানি সেনাদের গুলিবর্ষণ কমছিল না।
এই অপারেশনে রেললাইনের লোহায় আমার পায়ের অনেকখানি কেটে যায়। সে অবস্থায়ও অপারেশন পরিচালনা করি এবং শেষমেশ ৮-৯ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করি।