আন্তর্জাতিক

ক্ষমতা হারানোর ভয়েই কি আরব দলগুলোর ওপর আক্রমণ বাড়িয়েছেন নেতানিয়াহু

October 30, 2026
1 hour ago
By SAJ
ক্ষমতা হারানোর ভয়েই কি আরব দলগুলোর ওপর আক্রমণ বাড়িয়েছেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী ও লিকুদ পার্টির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি অভিযোগ করেছেন। তা হলো—নির্বাচনে আরব দলগুলোর নজিরবিহীন সাফল্যের পেছনে আংশিক দায় রয়েছে ভোট জালিয়াতির। যদিও এর পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাননি। আরব নেতারাও জালিয়াতির বিষয়টি নাকচ করেছেন। তাঁরা উল্টো নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত মঙ্গলবার। এই নির্বাচনে ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা ব্যাপক অংশগ্রহণ করেছেন। ফলে নেতানিয়াহু বা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের কারোরই সহজে ক্ষমতায় বসার পথ খোলা থাকেনি। এমন পরিস্থিতিতে আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু এবং তাঁর কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের বক্তব্য আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ভোট জালিয়াতির যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করে নেতানিয়াহু হয়তো তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটকে এমন অবস্থায় ফেলতে চাইছেন, যাতে তিনি আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের কথা চিন্তা করতে না পারেন।

নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর এখন পর্যন্ত কোনো দল বা জোট এককভাবে বিজয়ের পথে নেই। এমন পরিস্থিতিতে আইজেনকট যদি আরব দলগুলোকে সঙ্গে নেন, তাহলে নেতানিয়াহু ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন। রাইখম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আইতান গিলবোয়া বলেন, নেতানিয়াহুর লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের আরব ও ইহুদি নাগরিকদের হাত মেলানোকে অগ্রহণযোগ্য করে তোলা।

ইসরায়েলে নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, আসনসংখ্যায় সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর জাতীয়তাবাদী-ধর্মীয় জোট। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও মধ্য-বামপন্থী দলগুলোর জোট রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। তবে দুই নেতার কোনো জোটই ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি।

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো এবার রেকর্ডসংখ্যক ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আইজেনকটের জোটের পক্ষে আরব দলগুলোর ব্যাপক সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয়। তাঁর জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন, আর নেতানিয়াহুর শিবির পেয়েছে ৫৩টি। যদিও আইজেনকট এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোকে সঙ্গে নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

আরব দল জয়েন্ট লিস্টের অন্যতম নেতা আহমাদ তিবির ভাষ্যমতে, নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু ‘বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা’ শুরু করেছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, এই পুরো প্রচারণা কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য হলো আইজেনকটকে বাধা দেওয়া, ভয় দেখানো এবং জয়েন্ট লিস্ট বা রাআমের মতো আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন থেকে তাঁকে বিরত রাখা।

মঙ্গলবারের নির্বাচনের আগে, ভোটগ্রহণের সময়—এমনকি তার পরও নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্ররা আরব ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ার বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছেন। নেতানিয়াহুর ডানপন্থী দল লিকুদ একাধিক বিবৃতিতে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলেছে। আরব শহরগুলোয় ভোট কেনাবেচা ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তদন্তের আহ্বানও জানিয়েছে লিকুদ।

ভোট জালিয়াতির প্রমাণও তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করে লিকুদ পার্টি। তবে এখন পর্যন্ত সেসব প্রমাণ প্রকাশ করেনি তারা। ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের পর থেকে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত সাতজনকে ভোট জালিয়াতির সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই অঞ্চলে আরব জনগোষ্ঠীর বসবাস বেশি।

পরে গতকাল ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ জানান, নির্বাচনে অজ্ঞাত বিদেশিদের হস্তক্ষেপের চেষ্টার যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে অনুরোধ করেছেন তিনি। সোলবার্গের এই অনুরোধকে কাজে লাগিয়ে লিকুদ পার্টি অভিযোগ হলো—ইসরায়েলের গণতন্ত্রের ওপর হামলা হয়েছে।

আরব দল রাআমের প্রধান মনসুর আব্বাস বলেছেন, তাঁর দল জালিয়াতির কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। তিনিও অভিযোগগুলো তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে আব্বাস বলেন, আরব নাগরিকদের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর যেসব উসকানি দিচ্ছেন এবং তাঁদের অস্বীকার করতে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা কোনো কাজে আসবে না। কারণ, এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।