বাংলাদেশ

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় প্রধান আসামি হেলাল গ্রেপ্তার

March 24, 2026
6 months ago
By SAJ
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় প্রধান আসামি হেলাল গ্রেপ্তার

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি মো. হেলালকে (৪১) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার একটি এলাকা থেকে হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে অবস্থিত ই/৪৭ নম্বর রেলগেটের অস্থায়ী গেটম্যান ছিলেন।

মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. মেহেদী (৩৩) হাসান এখনো পলাতক। তিনি এই রেলক্রসিংয়ে ওয়েম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

হেলালকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে র‍্যাব-১১, সিপিসি-২-এর কুমিল্লার কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম প্রথম আলোকে বলেন, সংস্থার একটি আভিযানিক দল একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে আজ বুধবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

হেলালের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোদালিয়া গ্রামে। বাবার নাম মো. নুরুল ইসলাম। পলাতক অপর আসামি মেহেদীর বাড়ি একই উপজেলার বাহিরীপাড়া এলাকায়। বাবার নাম মো. আবদুল কাদের।

গত শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। ট্রেনটি বাসটিকে ইঞ্জিনের মুখে ঠেলে প্রায় ৭০০ মিটার দূরের দৈয়ারা নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে থামে। এ ঘটনায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ ঘটনায় সাতজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিনটি শিশুসহ মোট ১২ জন নিহত হন। আহত হন বাসের চালকসহ অন্তত ১৫ জন। হতাহত ব্যক্তির সবাই বাসের যাত্রী ছিলেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, হেলাল ও মেহেদীর দায়িত্বহীনতার কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দুজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এ ঘটনায় মোট তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত সোমবার কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা করেন শেফালী আক্তার (৫৮) নামে এক নারী। তিনি এই দুর্ঘটনায় নিহত সোহেল রানার খালা। মামলায় হেলাল, মেহেদী ছাড়াও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।