বাংলাদেশ

নিখোঁজ ও অপহৃত শিশু দ্রুত উদ্ধারে জাতীয় হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু সিআইডির

January 13, 2026
3 months ago
By SAJ
নিখোঁজ ও অপহৃত শিশু দ্রুত উদ্ধারে জাতীয় হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু সিআইডির

নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে ‘ফ্রি হেল্পলাইন’ (১৩২১৯) চালু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার ও দ্রুত সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা ‘মুন অ্যালার্ট’ (মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন)।

আজ মঙ্গলবার সকালে সিআইডি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ এ তথ্য জানান।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন, বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের পরিচালক মো. নুরুননবী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক মোহা. কামরুজ্জামান ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশের আহ্বায়ক সাদাত রহমান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেন, নিখোঁজ শিশু–সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে টোল ফ্রি হেল্পলাইন ‘১৩২১৯’–এ জানানো যাবে। পাশাপাশি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও সিআইডির মিসিং চিলড্রেন সেল নম্বরেও তথ্য দেওয়া যাবে। পরে এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করে জরুরি সতর্কবার্তা ‘মুন অ্যালার্ট’ জারি করবে সিআইডি। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো সময় এই নম্বরে ফোন করা যাবে। ভবিষ্যতে পুলিশের অন্যান্য হটলাইনও এর সঙ্গে যুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে নিখোঁজ শিশুকে দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়।

সিআইডির প্রধান জানান, এই জরুরি সতর্কবার্তা অফিশিয়াল ওয়েব পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপের পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল বিলবোর্ড, ব্যাংকের এটিএম বুথ, প্রয়োজন অনুযায়ী মুঠোফোনে খুদে বার্তা ও অন্য প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রচার করা হবে, যাতে সাধারণ জনগণ দ্রুত তথ্য দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারেন। পুরো প্রক্রিয়ায় শিশুর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

সিআইডির প্রধান আরও জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম বা শিশু পাচারের আশঙ্কা দেখা দিলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘ইয়েলো নোটিশ’ জারির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিকভাবে ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’ পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি) ও ফেসবুকের সহায়তায় সিআইডি ও জিরো মিসিং প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, বাংলাদেশে অসংখ্য ব্যাংক, হাজার হাজার এটিএম ও প্রতিটি শাখায় ডিজিটাল স্ক্রিন আছে। যদি কোনো শিশু নিখোঁজ হয়, তার ছবি ও তথ্য অ্যাম্বার অ্যালার্টের মাধ্যমে সব এটিএমের স্ক্রিনে ও ব্যাংকের শাখাগুলোর টিভিতে একটানা কয়েক দিন ধরে দেখানো যেতে পারে। এতে লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে সেই শিশুকে খুঁজতে পারবেন। সিআইডির সঙ্গে সমন্বয় করে এই কাজ করা হবে।