জীবনযাপন

রমজান মাসে মাথাব্যথা হলে কী করবেন?

March 2, 2026
1 month ago
By SAJ
রমজান মাসে মাথাব্যথা হলে কী করবেন?

রমজান মাসে মাথাব্যথার অন্যতম কারণ পানিশূন্যতা। অনেকেই রাতে বেশি পানি খেয়ে অভ্যস্ত নন। তাই ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত সারা দিনের পানির চাহিদা মিটিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

রমজান মাসে সাধারণত পানিশূন্যতাজনিত মাথাব্যথা হয় দিনে, পড়ন্ত বেলায়। এই সময়টায় মাথাব্যথার আরেকটি কারণ হলো রক্তের শর্করা কমে যাওয়া। বিশেষত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এমনটা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

রমজান মাসে সাহ্‌রির সময় তো ওঠা হয়ই, কারও কারও অফিসের সময়ও বদলায়। ঘরের কাজের ধারায় আসে পরিবর্তন। এমন সব কারণে ঘুমের সময়ও বদলে যায়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মাথাব্যথা হতে পারে যে কারও।

যে সময় কেউ ক্যাফেইন গ্রহণে অভ্যস্ত, সেই সময় তা না পেলেও তাঁর মাথাব্যথা হতে পারে। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে কারও চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ওই সময়টায় তাঁর মাথাব্যথার ঝুঁকি থাকে।

তবে কিছু রোগের কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। পরিবর্তিত জীবনধারার কারণে মাইগ্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তির মাথাব্যথা বাড়তে পারে। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি ওষুধ সেবনে অনিময় করলে কিছু জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন। এসব সমস্যার লক্ষণও হতে পারে মাথাব্যথা।

বুঝতেই পারছেন, মাথাব্যথা প্রতিরোধ করতে স্বাস্থ্যকর জীবনধারার বিকল্প নেই। তাই সবারই খেয়াল রাখতে হবে এসব বিষয়—

ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে। সাহ্‌রি খেতে হবে বুঝেশুনে।

সাহ্‌রির জন্য এমন খাবার বেছে নিতে হবে, যা হজম হতে সময় একটু বেশি লাগে। গোটা শস্য (লাল চাল, লাল আটা, ওটস, কিনোয়া প্রভৃতি) এ ধরনের খাবার। এ ধরনের খাবার খেলে রক্তের শর্করা বাড়ে ধীরে ধীরে, কমেও ধীরে ধীরে। আমিষও রাখুন সাহ্‌রিতে।

প্রক্রিয়াজাত এবং পরিশোধিত (রিফাইনড) খাবার (যেমন ইনস্ট্যান্ট নুডলস) এড়িয়ে চলুন সাহ্‌রিতে।

দিনে চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সাহ্‌রির ১৫-২০ মিনিট পর খেয়ে নিতে পারেন। তবে সাহ্‌রিতে পর্যাপ্ত পানি খেতে ভুলবেন না। চা-কফি খাওয়ার কারণেও পানিশূন্যতা হতে পারে।

পরিবর্তিত জীবনধারা অনুযায়ীই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। রাতে অনিদ্রার ভোগান্তি না হলে দিনে সুযোগ করে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন।

শরীরচর্চা করতে পারেন ইফতারের পর। দিনে ব্যায়াম করতে চাইলে ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন। পড়ন্ত বেলায় কোনো ব্যায়াম না করাই ভালো।

সম্ভব হলে লম্বা সময়ের জন্য সরাসরি রোদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

এ ছাড়া ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা মাইগ্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তি, যাঁদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়, তাঁরা রোজকার ওষুধ সেবনের সময়ের ব্যাপারে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে নিন।

রমজান মাসে দিনের বেলায় মাথাব্যথা হলে ওই মুহূর্তে আপনি পানি বা খাবারও খেতে পারেন না, আবার কোনো ওষুধও সেবন করতে পারেন না। ওই মুহূর্তে একটু বিশ্রাম নিতে পারেন। সম্ভব হলে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিন। কাপড়ে বা তোয়ালেতে বরফ বা ঠান্ডা পানির বোতল পেঁচিয়ে কিছুক্ষণ চেপে রাখতে পারেন ব্যথার জায়গায়।

সাধারণ কোনো কারণে মাথাব্যথা হলে তীব্রতা খুব বেশি হয় না এবং এর সঙ্গে কোনো বিপজ্জনক লক্ষণও থাকে না। এমন কিছু লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক, যেসব থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা

চোখে ঝাপসা দেখা

অতিরিক্ত বমি

অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা

এ ছাড়া যদি কেউ অসংলগ্ন আচরণ করেন, অজ্ঞান হয়ে যান, খিঁচুনি হয়, রক্তচাপ বা রক্তের শর্করা খুব বেশি বেড়ে বা কমে যায়, তাহলে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

রক্তের শর্করা ৪ মিলিমোল/লিটারের নিচে নেমে এলে চিনি-পানি খাইয়ে দিতে হবে, যদি তিনি খাওয়ার মতো অবস্থায় থাকেন।

এভাবে রক্তের সুগার স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসার সুযোগ না হলে জরুরি ভিত্তিতে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।