বাংলাদেশ

শিকার টানতে ফাঁদে রাখা হয়েছিল চোখ সেলাই করা ঘুঘু

March 12, 2026
2 months ago
By SAJ
শিকার টানতে ফাঁদে রাখা হয়েছিল চোখ সেলাই করা ঘুঘু

পাখি শিকারের জন্য দুর্বৃত্তরা জাল পেতে ফাঁদ তৈরি করে। ফাঁদে সুতা দিয়ে চোখ সেলাই করে, পালক ছেঁটে একটি ঘুঘুকে আটকে রাখা হয়। দৃশ্যটি নজরে পড়ে বেসরকারি সংস্থার এক কর্মকর্তার। ওই ঘুঘুকে মুক্ত করে তিনি চোখের সেলাই খুলে দেন। পরে আহত পাখিটি স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় রাখা হয়।

ওই পরিবারের সদস্যদের সেবাযত্নে ধীরে ধীরে পাখিটি সুস্থ হয়ে উঠছে। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাকালুকি হাওর-সংলগ্ন সিংহনাদ-জগতপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

হাকালুকি হাওরের উন্নয়নে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস-নবপল্লব-এর কুলাউড়া কার্যালয়ের মাঠ কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, নাগুয়া-লরিবাই বিলের পাড়ে তাঁদের সংস্থার উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কিছু গাছের চারা লাগানো হয়েছে। ৯ মার্চ তাঁরা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি মাইক্রোবাসে করে ওই বাগান দেখাতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এখন শুধু বিল ছাড়া হাওরের বাকি সব জমি শুকনা। সিংহনাদ-জগতপুর গ্রাম দিয়ে হাওরে ঢোকার সময় তাঁরা দেখতে পান, ফাঁকা জমিতে পাশাপাশি দুটি জাল পেতে রাখা। জালে বন্দী একটি ঘুঘু। পাশে দুজন যুবক ঘোরাঘুরি করছিলেন। একপর্যায়ে গাড়ি দেখে তাঁরা দ্রুত সটকে পড়েন।

তৌহিদুর বলেন, গাড়ি থামিয়ে নামেন তাঁরা। কাছাকাছি গিয়ে শক্ত সুতা দিয়ে ঘুঘুটির পা বেঁধে জালে আটকানো দেখতে পান। এর দুটি ডানা ও লেজের কিছু অংশের পালক ছেঁটে ফেলা হয়েছিল। পাখিটি চোখে দেখতে পারছিল না। সুতা দিয়ে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল দুই চোখ। এ অবস্থায় পাখিটিকে প্রথমে মুক্ত করে চোখের সেলাই খুলে দেন। পরে মুহিব আলী নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় পাখিটিকে রেখে আসেন। পাখিটি সেরে উঠতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।