বাংলাদেশ

ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন বিএনপির ফয়সল, ‘বন্ধু’ বলে ব্যারিস্টার সুমনের সমর্থকদের টানার চেষ্টা তাহেরীর

February 9, 2026
2 months ago
By SAJ
ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন বিএনপির ফয়সল, ‘বন্ধু’ বলে ব্যারিস্টার সুমনের সমর্থকদের টানার চেষ্টা তাহেরীর

হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট ও মাধবপুর) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হন সৈয়দ সায়েদুল হক, যিনি ব্যারিস্টার সুমন নামে পরিচিত। এর আগে অনুষ্ঠিত প্রায় সব নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছিলেন। এবার আওয়ামী লীগ না থাকায় নতুন সমীকরণে ভোট টানার চেষ্টা করছেন বিএনপি ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের দুই প্রার্থী।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন এস এম ফয়সল। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন ওরফে মাওলানা তাহেরী। তাঁরা উভয়ই চাপে আছেন বলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আলোচনা আছে। ভোটের ফল নিজেদের অনুকূলে নিতে প্রার্থীরা জোর প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চুনারুঘাট ও মাধবপুরের কয়েকটি এলাকা ঘুরে অন্তত ১৫ থেকে ১৬ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের গিয়াস উদ্দিন (মাওলানা তাহেরী), বাসদের মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের রাশেদুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রেজাউল মোস্তা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

ভোটের মাঠে ৯ জন প্রার্থী থাকলেও আলোচনায় বেশি আছেন বিএনপির এস এম ফয়সল ও ইসলামী ফ্রন্টের মাওলানা তাহেরী। স্থানীয় লোকজনের মতে, প্রচারণায় এই দুই প্রার্থীই এগিয়ে এবং ভোটারদের আগ্রহও তাঁদের ঘিরে বেশি।

মাওলানা তাহেরী ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি নির্বাচিত হলে সাবেক সংসদ সদস্য সুমনের মুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন। তিনি নিজেকে সুমনের বন্ধু দাবি করে তাঁর সমর্থকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি চুনারুঘাট-মাধবপুর এলাকায় কোনো ওয়াজ মাহফিলে সম্মানী নেবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া চা-শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাহেরীর বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে হলেও তাঁর শ্বশুরবাড়ি মাধবপুরে হওয়ায় এ এলাকায় তাঁর পরিচিতি আছে।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল দলীয় বিদ্রোহী ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চাপে আছেন বলে স্থানীয় ভোটারদের ধারণা। যদিও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে এখন মাঠে সক্রিয় নন। তবে বয়স আশির কাছাকাছি হলেও এস এম ফয়সল নিয়মিত ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে প্রচারণায় আছেন তাঁর ভাই মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ শাহজাহান।চুনারুঘাট ও মাধবপুরে মোট ২১টি চা-বাগান আছে। এসব বাগানের চা-শ্রমিকেরা এ আসনের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রার্থীরা তাঁদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। চা-শ্রমিকদের ভাষ্য, যে প্রার্থী তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করবেন, তাঁকেই ভোট দেবেন।

চুনারুঘাট নতুন বাজার এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা এ আসনে নির্বাচিত হলেও এবার দলটি মাঠে নেই। ফলে আওয়ামী লীগের ভোট ও চা-শ্রমিকদের ভোট যেদিকে বেশি যাবে, সেই প্রার্থী এগিয়ে থাকবেন।

মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের শ্রমিক কৃষ্ণ সাঁওতাল বলেন, যিনি তাঁদের পাশে থাকবেন, তাঁকেই ভোট দেবেন তাঁরা। শ্রমিক মিতা সরকার বলেন, নৌকা নেই। এখন যিনি বেতন বাড়াবেন, উন্নয়ন করবেন, দলমত–নির্বিশেষে তাঁকেই ভোট দিবেন।

বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল বলেন, ধানের শীষের বিপরীতে অন্য কোনো প্রতীকের প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, ‘এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। সব সময় মানুষের পাশে ছিলাম। আশা করি, মানুষ আমাকে বিজয়ী করবেন।’

গিয়াস উদ্দিন ওরফে মাওলানা তাহেরী বলেন, অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনা আছে। বিশেষ করে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চান। তাঁদের ওপর থাকা বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

এ দিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী আহমেদ আবদুল কাদের দাবি করেন, তিনি মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করবেন।