খেলা

যে ক্রিকেটাররা এখন নিজেরাই দলের মালিক

September 11, 2026
1 month ago
By SAJ
যে ক্রিকেটাররা এখন নিজেরাই দলের মালিক

একসময় তাঁরা ছিলেন মাঠের মানুষ। কারও হাতে ছিল বল, কারও হাতে ব্যাট; কেউ স্লিপে দাঁড়িয়ে উড়ে যাওয়া ক্যাচ ধরেছেন, কেউ অধিনায়ক হিসেবে দলকে শিরোপা জিতিয়েছেন। এখন তাঁদের অনেকেই মাঠের বাইরে বসে ঠিক করছেন একটি দলের ভবিষ্যৎ। কাকে দলে নেওয়া হবে, দলটা কেমন হবে, এমনকি মাঠের বাইরের ব্যবসাটাই–বা কীভাবে চলবে...এসব নিয়েই তাঁদের ব্যস্ততা।

ক্রিকেটার থেকে দলের মালিক—পরিবর্তনটা এখন আর ব্যতিক্রমী কোনো ঘটনা নয়। টি-টুয়েন্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্তারের সঙ্গে সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য খুলে গেছে নতুন এক দরজা। ইউরোপ থেকে ভারত, শ্রীলঙ্কা থেকে কানাডা—ক্রিকেটের নতুন বাজারে মালিকের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে একের পর এক সাবেক ও বর্তমান তারকাকে।

এর সবচেয়ে বড় ছবিটা এখন ইউরোপে। নতুন ইউরোপিয়ান টি-টুয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে (ইটিপিএল) দলগুলোর মালিকানার তালিকা দেখলে মনে হবে, মাঠের ক্রিকেটটা যেন উঠে এসেছে মালিকানার টেবিলেও।

ভারতের সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড় আছেন ডাবলিন গার্ডিয়ানের মালিকানায়। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্টি রোডস, ফাফ ডু প্লেসি ও হাইনরিখ ক্লাসেন মিলে গড়েছেন রটারডাম ডকারস। ডু প্লেসি আবার দলের অধিনায়কও। অর্থাৎ যে মানুষটি মাঠে দাঁড়িয়ে দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, মাঠের বাইরে তিনিই দলের মালিকদের একজন।

অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও আছেন দুই ভূমিকায়। বেলফাস্ট উলভসের সহমালিক তিনি, আবার দলের অধিনায়কও। আরেক অস্ট্রেলিয়ান ম্যাথু হেইডেনের ভূমিকাটা আরও বিস্তৃত। গ্লাসগো কসমিকের মালিক হওয়ার পাশাপাশি দলটির প্রধান কোচও তিনি। নিউজিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার কাইল মিলস ও নাথান ম্যাককালাম মালিক এডিনবরা ক্যাসল রকারসের। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ আছেন আমস্টারডাম ফ্লেমসের মালিকানায়।

বলে রাখা ভালো, এই ইটিপিএলের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের তুলনায় একটা জায়গায় ব্যতিক্রমী। বিপিএর, আইপিএল, পিএসএল, সিপিএলের মতো লিগগুলো একটি ক্রিকেট বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। আর ইটিপিএলে আছে একসঙ্গে তিনটি বোর্ডের সংশ্লিষ্টতা—স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস। তারা অবশ্য সহযোগী, প্রধান বিনিয়োগকারী ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একটি গ্রুপ, যেখানে সামনের সারির মুখ বলিউড অভিনেতা অভিষেক বচ্চন। প্রথম মৌসুমে ইউরোপের ছয়টি শহরভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে শুরু হয়েছে লিগটি।

ক্রিকেটারদের দল মালিকানার এই যাত্রা অবশ্য ইউরোপেই থেমে নেই। ভারতেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সঙ্গে সাবেক ক্রিকেটারদের সম্পর্ক এখন আর শুধু ডাগআউট বা ধারাভাষ্যকক্ষ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নেই।

সাবেক ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ান যুক্ত হয়েছেন দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের সাউথ দিল্লি সুপারস্টারসের মালিকানায়। কেরালা ক্রিকেট লিগে আবার মালিকের ভূমিকায় আছেন সাবেক ভারতীয় পেসার এস শ্রীশান্ত। অ্যারিস কোলাম সেইলরসের সহমালিক তিনি।

একই লিগে আছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন ক্রিস গেইল। কোচি ব্লু টাইগার্সের সহমালিক ও মেন্টর তিনি। একসময় যাঁর ব্যাটে টি-টুয়েন্টির সংজ্ঞাই বদলে গিয়েছিল, এখন সেই গেইলই একটি টি-টুয়েন্টি দলের মালিকানার অংশ।

আর জহির খানের জগতটা আরও বিস্তৃত।

সাবেক ভারতীয় পেসার লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের জাফনা কিংসের মালিকানা গ্রুপে যোগ দিয়েছেন স্টকহোমভিত্তিক অ্যাংকর স্পোর্টস এবির সঙ্গে। এই অ্যাংকর স্পোর্টস আবার কানাডার সুপার৬০ লিগের দল ভ্যাঙ্কুভার অ্যাংকরসেরও মালিক। মানে জহির এখন দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় আছেন। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের তথ্যমতে, ভ্যাঙ্কুভারের মালিকানায় জহিরের সঙ্গে আছেন ভারতের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংও।

একসময় একজন ক্রিকেটার মাঠের ক্যারিয়ার শেষে কোচিং, ধারাভাষ্য অথবা ক্রিকেট প্রশাসনে যেতেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের নতুন দুনিয়ায় তাঁরা এখন দলের মালিকও।