আন্তর্জাতিক

গাজা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরান প্রশ্নে নতুন উত্তেজনা: ট্রাম্প-নেতানিয়াহু দূরত্ব বাড়ছে

December 28, 2025
3 months ago
By SAJ
গাজা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরান প্রশ্নে নতুন উত্তেজনা: ট্রাম্প-নেতানিয়াহু দূরত্ব বাড়ছে

ইরানকে বছরের পর বছর তাঁর নিজের দেশ ছাড়াও বিশ্বের জন্য বড় হুমকি বলে বর্ণনা করে আসছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের এ সতর্কবার্তা আমলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জুনে তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা করেন। কিন্তু হামলার পরও ইসরায়েল সন্তুষ্ট হয়নি বলেই মনে হচ্ছে। দেশটির সরকার সম্ভবত ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

আজ রোববার নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন। আগামীকাল সোমবার ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন তিনি।

ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ২৮ ডিসেম্বর (আজ) যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং এক দিন পর ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন। তবে তাঁদের সাক্ষাতের নির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে জানাননি তিনি।

যদিও ট্রাম্প মধ্য ডিসেম্বরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বড়দিনের ছুটির সময় নেতানিয়াহু সম্ভবত ফ্লোরিডায় তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। এ বছর এটি হবে পঞ্চমবারের মতো নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর।

নেতানিয়াহুর সফর এমন এক সময় হচ্ছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় ধাপে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে ওই বৈঠকে নেতানিয়াহু তেহরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ওয়াশিংটনকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এবার নেতানিয়াহুর লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প।

শুধু ইসরায়েলি কর্মকর্তারাই নন, তাঁদের মার্কিন মিত্ররাও আবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছেন। এবার তাঁদের দাবি, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রকে তৎক্ষণাৎ মোকাবিলা করতে হবে; যদিও বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে আরেকটি সংঘাত ট্রাম্পঘোষিত মার্কিন নীতির অগ্রাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো সিনা তুসি বলেন, ট্রাম্প যেখানে ইসরায়েল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাপ দিচ্ছেন, সেখানে নেতানিয়াহু এ অঞ্চলজুড়ে সামরিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।

সিনা তুসি বলেন, ‘ইরানকে প্রকৃত অর্থে ভেঙে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী সংশ্লিষ্টতা ও অবিরাম যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ইসরায়েলের লক্ষ্যকেই প্রতিফলিত করে। তার (ইসরায়েল) লক্ষ্য, অপ্রতিদ্বন্দ্বী আধিপত্য, প্রশ্নাতীত প্রভাব ও সম্প্রসারণবাদ প্রতিষ্ঠা।’

এ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এটাই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মূল লক্ষ্যগুলোর একটি এবং এ পথে ইসরায়েলকে সমর্থন দিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিতে চান। তিনি বলেন, ‘কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ভিন্ন দিকে যাচ্ছে এবং তারা সরাসরি কোনো মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততা ছাড়াই এ অঞ্চলকে আরও বেশি স্থিতিশীল করতে চাইছে। এ প্রেক্ষাপটে (ইসরায়েলের) অবস্থান শেষ পর্যন্ত মুখোমুখি সংঘাতে গিয়ে ঠেকবে।’ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে উপস্থাপন করছেন। যদিও ইসরায়েল প্রতিনিয়ত গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনিই নাকি ৩ হাজার বছরে প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি এনেছেন।

আর ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রতি প্রকাশিত জাতীয় নিরাপত্তাকৌশল বলছে, এ অঞ্চল ‘সহযোগিতা, বন্ধুত্ব ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে উদীয়মান হচ্ছে’। এটি এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তাকৌশলে অগ্রাধিকার পাওয়া অঞ্চল নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজের সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এ সময়ে ইসরায়েল এমন এক যুদ্ধের জন্য দেন–দরবার করছে, যা ওয়াশিংটনকে আবার সংঘাতে টেনে আনতে পারে।

তাই ট্রাম্প নেতানিয়াহুর এ ফাঁদে পা দেবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। নেতানিয়াহু যতই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিজের নিরাপত্তা ও বিশ্বের জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করুন; ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিকে সম্পূর্ণরূপে শেষ করে দিয়েছে।