বাংলাদেশ

কেউ তেড়ে যাচ্ছেন কিরিচ হাতে, কারও হাতে লাঠিসোঁটা, ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ২০

April 21, 2026
1 month ago
By SAJ
কেউ তেড়ে যাচ্ছেন কিরিচ হাতে, কারও হাতে লাঠিসোঁটা, ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ২০

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই দফায় সংঘর্ষ চলে। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে উভয় পক্ষের কর্মীদের দেখা গেছে। ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দুই পক্ষই দাবি করেছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, একটি গ্রাফিতির নিচে আগে লেখা ছিল—‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। গতকাল সোমবার রাতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা-কর্মী গিয়ে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেন। পরে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেওয়া হয়।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। আজ সকাল থেকেই বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। উভয় পক্ষই হামলার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।

সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, গ্রাফিতির লেখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে ডাকা হয়। পরে কলেজের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

দুপুরের পর কিছুটা শান্ত হলেও পরে ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল বের করলে আবার উত্তেজনা ছড়ায়। বিকেল চারটার দিকে নগরের নিউমার্কেট মোড় থেকে শিবিরের মিছিল কলেজের দিকে এলে সিটি কলেজের সামনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন। এতে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সংঘর্ষের সময় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কলেজের সামনে ছাত্রদল এবং নিউমার্কেট এলাকায় শিবিরের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন। দুই পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। কয়েকজনের হাতে ধারালো অস্ত্র এবং অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা গেছে।

ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম নগর দক্ষিণ শাখার প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম দাবি করেন, তাঁদের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আশরাফ হোসেন নামের এক কর্মীর গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আশরাফকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রাফিতি মুছে “গুপ্ত” লেখা হয়েছে। তারা যদি গুপ্ত না হয়, তাহলে তাদের কেন গায়ে লাগল!’

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হন। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে কলেজের সামনে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে তাঁদের অবস্থান দেখা গেছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, দুপুরের ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম জানান, সামি মো. আলাউদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথায় সেলাই দেওয়া হয়েছে। পরে পরিবার তাঁকে বাসায় নিয়ে গেছে।

১৯৫৪ সালে চট্টগ্রাম নাইট কলেজ নামে যাত্রা শুরু করা চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাস কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ক্যাম্পাসটি রাজনীতিমুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে সে বছর কমিটি দেয় ইসলামী ছাত্রশিবির। আগে কমিটি থাকলেও ৫ আগস্টের পর সক্রিয় হয় ছাত্রদলও। ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব রয়েছে।