র্যাঙ্কিংয়ে স্বস্তি মিলেছে, এখন বাংলাদেশের চাওয়া কী
মেহেদী হাসান মিরাজের কথায় স্বস্তির ছাপই দেখা মিলল গতকাল। তা অবশ্য থাকারই কথা, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে পরপর তিনটা সিরিজ জিতেছে ঘরের মাঠে। যেকোনো অধিনায়কের জন্যই তা স্বস্তির, মেহেদী হাসান মিরাজের জন্য তা আরও একটু বেশি।
তা কেন? উত্তর পেতে হলে আপনাকে পিছিয়ে যেতে হবে আরও কয়েক মাস। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শুরুর আগেই যে রীতিমতো খাদের কিনারায় পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ে তারা নেমে গিয়েছিল ১০ নম্বরে!
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত যারা র্যাঙ্কিংয়ের সেরা আটে থাকবে, তারাই ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন সরাসরি। এটাও বাংলাদেশকে ভাবাচ্ছিল।
এখানেও আবার অন্য একটা অঙ্ক আছে, বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার র্যাঙ্কিংয়ে সেরা আটে থাকা একরকম নিশ্চিতই। তেমন হলে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা ৯–এ থাকলেও চলবে কোনো দলের। বাকিদের বিশ্বকাপ খেলতে হলে পাড়ি দিতে হবে বাছাইপর্বের পথ। বাংলাদেশ যে সেই পথে হাঁটতে চায় না বলাই বাহুল্য। পরপর তিন সিরিজ জিতে তাতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে তারা।
বাংলাদেশ এখন ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আছে র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে। র্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বরে থাকা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জেতার পর সেই পয়েন্ট বাড়বে। তবে ৯ থেকে আটে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
তবে বাংলাদেশের নিচে ১০ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের (৭৭ রেটিং পয়েন্ট) সঙ্গে নিরাপদ একটা দূরত্বই তৈরি করেছে বাংলাদেশ। টানা কয়েক সিরিজে বাংলাদেশ খারাপ করলে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ একই সঙ্গে ভালো করলে সেই দূরত্ব কমতে পারে। না হলে সেই সম্ভাবনা কম।
স্বস্তির সময়ে বাংলাদেশের চাওয়া গতকাল জানিয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মিরাজও, ‘বিশ্বকাপে সরাসরি খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একই সঙ্গে ভালো ক্রিকেট খেলাও। এটা না করতে পারলে ওটাও (কোয়ালিফাই) পারব না।’ সেরা নয়ে থাকতে মিরাজ এখন আত্মবিশ্বাসীও, ‘আমরা যদি ধারাবাহিক পারফর্ম করতে পারি আমার কাছে মনে হয় সেরা ৯ না, আমরা আরও অনেক ওপরে যেতে পারি।’
বাংলাদেশ এখন দল গোছাতে শুরু করেছে বিশ্বকাপকে মাথায় রেখেও। শেষ ম্যাচেই যেমন একাদশে রাখা হয়নি রিশাদ হোসেনকে। তাঁর জায়গায় সুযোগ পাওয়া তানভীর হোসেনকে জায়গা দেওয়ার পেছনেও কাজ করেছে বিশ্বকাপ ভাবনাই।
মিরাজ গতকাল বলেছেন, ‘আমরা চাইছি, একটা ভালো দল তৈরি করতে। কারণ, আমাদের সামনে যেহেতু বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপের মতো টুর্নামেন্ট আছে। আমরা যদি প্রতিটা খেলোয়াড়কে একটু সুযোগ দিয়ে দেখতে পারি, তাহলে একটা খেলোয়াড় আত্মবিশ্বাস পাবে।’