বাংলাদেশ

সাগরপাড়ের যে পার্কে রয়েছে ১৪০ প্রজাতির ফুল ও জিপলাইন

January 7, 2026
7 months ago
By SAJ
সাগরপাড়ের যে পার্কে রয়েছে ১৪০ প্রজাতির ফুল ও জিপলাইন

পার্কের এক পাশে সাগর, মাঝখানে জোড়া পুকুর। এর বাইরে পুরো পার্কেই দেশি-বিদেশি ১৪০ প্রজাতির রঙিন ফুল। মাসব্যাপী ফুল উৎসবকে ঘিরে এবার এভাবেই সেজেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ডিসি পার্ক। এবার ফুল উৎসবে দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে বাগানের ওপর দিয়ে জিপলাইনে চড়ার ব্যবস্থাও।

ডিসি পার্কের ফুল উৎসব শুরু হবে আগামী শুক্রবার। চলবে মাসব্যাপী। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সীতাকুণ্ডে এই উৎসব হচ্ছে। এর আগে তিন বছর জোড়া পুকুরের এক পাশেই ফুলের বাগান সাজানো হয়েছিল। এবার ফুল থাকবে পুকুরের পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় পাশেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হক ফুল উৎসবের উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। এ বছর প্রায় ২০ লাখ দর্শনার্থী ফুল উৎসবে অংশ নেবেন বলে আশা জেলা প্রশাসনের।

ডিসি পার্কের ইনচার্জ আব্দুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দর্শনার্থীদের স্মৃতি ধরে রাখতে এবার পেশাদার ফটোগ্রাফারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবার পুকুরের দুই পাশেই ফুল উৎসব হবে। নতুন-পুরোনো ফুলের পাশাপাশি পার্কের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদিত ফুলও থাকবে। পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী রাখা হয়েছে।’

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, পার্কের ভেতরের বেশ কিছু অংশে এ বছর পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন স্থাপনার গঠনও বদলানো হয়েছে। ফটকের ভেতর বাঁ পাশে শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকছে আলাদা আয়োজন। মূল ফটকের ভেতরে পুকুরের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়জুড়েই রয়েছে সাজানো গোছানো ফুলের বাগান।

এবার তৈরি করা হয়েছে জায়ান্ট ফ্লাওয়ার, ট্রি হাউস, ট্রিপল হার্ট শেলফ, ট্রেন, বক, ময়ূরসহ বিভিন্ন নান্দনিক স্থাপনা। বিদেশি ফুলের মধ্যে রয়েছে লিলিয়াম, ম্যাগনোলিয়া ও ক্যামেলিয়া। দেশি ফুলের মধ্যে আছে গাঁদা, জবা, কৃষ্ণচূড়া, চন্দ্রমল্লিকা ইত্যাদি।

পার্কের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে বিভিন্ন বিনোদন উপকরণ বসানো হয়েছে। পুকুরে কায়াকিংয়ের জন্য রাখা হয়েছে নৌকা। দক্ষিণ পাশের পুকুরটির ওপর দিয়ে নেওয়া হয়েছে জিপলাইন। মূল ফুল উৎসব এলাকা থেকে জিপলাইনে করে দর্শনার্থীরা পুকুরের পূর্ব পাশের ফুলের বাগানে যেতে পারবেন।

পুকুরের উত্তর পাশের পূর্ব পাড়ে বসানো হয়েছে খাবারের স্টল ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন। মাসব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও থাকছে। পার্কে প্রবেশে আগের মতোই জনপ্রতি ৫০ টাকা টিকিট নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ফুলপ্রেমীরা পার্কে আসতে শুরু করেছেন। তাঁদের একজন নাসির উদ্দিন। চট্টগ্রাম নগর থেকে আসা এ ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন বছর ধরে ফুল উৎসব হওয়ায় ডিসেম্বর এলেই সবাই অপেক্ষায় থাকেন। এবার প্রচারণা কম দেখেছি, তাই নিজে এসে দেখে যাচ্ছি আয়োজন কেমন হচ্ছে। উৎসব শুরু হলে পরিবার নিয়ে আবার আসব।’

বেড়াতে আসা আরেক পর্যটক সাইফুল মাহমুদ বলেন, ‘তিন বছর ধরেই ফুল উৎসবে আসি। ডিসি পার্ক দিন দিন আরও সুন্দর হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও নতুন থিম দিয়ে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।’

পার্ক–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সরকারি ছুটির দিনে এখনই দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। ফুল উৎসব শুরু হলে অন্য বছরের তুলনায় দর্শনার্থী আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুল উৎসব এটি। মানুষের চাহিদার কারণে প্রতিবছর নতুন থিম যুক্ত করা হচ্ছে। এবার নতুন সংযোজন জিপলাইনসহ বিভিন্ন স্থাপনা।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘গতবারের তুলনায় চার প্রজাতির ফুল বাড়িয়ে এবার মোট ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুল দিয়ে ডিসি পার্ক সাজানো হয়েছে। উৎসব শুরুর আগেই দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে—এটাই আমাদের জন্য আনন্দের।’